ইলেকট্রিক-ড্রাইভ The Electric Drive

এ ধরনের ড্রাইভ যথেষ্ট ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের সিস্টেমে গাড়িসমূহ ডিস্ট্রিবিউশন-সিস্টেম থেকে ইলেকট্রিক্যাল এনার্জি হলে করে। ডিস্ট্রিবিউশন-সিস্টেমে ঝুলন্ত-তার ট্রাক-পথের উপরে থাকে অথবা অতিরিক্ত রেলপথ ট্রাক-পথের পার্শ্বে থাকে। ঝুলন্ত-তার বা রেলপথকে বিভিন্ন সুবিধাজনক বিন্দুতে পাওয়ার সরবরাহ করা হয়, যা কেন্দ্রীয় পাওয়ার স্টেশন অথবা সাবস্টেশন থেকে করা হয়।


সুবিধাসমূহ (Advantages) 
১। অন্যান্য সিস্টেমের চেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, এজন্যে আন্ডারগ্রাউন্ড টিউব রেলওয়েতে প্রচলন বেশি। 
২। পানি বা কয়লা ইত্যাদির প্রয়ােজন হয় না। 
৩। কয়লা ঘর, ক্রেন, ছাই, ওয়াটার-সাপ্লাই প্ল্যান্ট ইত্যাদির প্রয়ােজন হয় না; ওয়ার্কশপ এবং শেডসমূহ (Sheds) ছােট আকারের হয়। 
৪। ট্রেনে লাইট, ফ্যান, ইত্যাদির জন্যে পাওয়ার সরাসরি দেয়া যায়। ৫। ট্রেনের স্পিড-কন্ট্রোল উন্নত ধরনের এবং স্লো-স্পিডে চলতে সক্ষম। 
৬। দ্রুত ত্বরণ সম্ভব। 
৭। স্টিম-লােকোমােটিভের তুলনায় ইলেকট্রিক-লােকোমােটিভ খুব তাড়াতাড়ি সার্ভিসে আনা যায়। 
৮। মেইনটেন্যান্স এবং মেরামত খরচ স্টিম-লােকোমােটিভের তুলনায় ৫০% কম। 

অসুবিধাসমূহ (Disadvantages) 
১। এর প্রাথমিক স্থাপনা খরচ অত্যন্ত বেশি। 
২। ভােল্টেজ-ড্রপ, লিকেজ-কারেন্ট ইত্যাদি প্রায়ই সমস্যা করে। 
৩। সামান্য সময়ের জন্যে পাওয়ার চলে গেলে সম্পূর্ণ সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে। 
৪। ট্রেনের কক্ষ গরম করার জন্যে স্টিম-লােকোমােটিভের স্টিম ব্যবহারে খরচ কম হয়, কিন্তু ইলেকট্রিক-লােকোমােটিভে খরচ বেশি পড়ে। 
৫। রিজেনারেশনের জন্য অতিরিক্ত খরচ পড়ে।

ট্রাম-ওয়ে ও ট্রলি-বাসের কার্যনীতি:
ট্রাম-গাড়ি সাধারণত 600 ভােল্ট ডিসি সরবরাহে চলে। এই ক্ষেত্রে ওভারহেড কন্ডাকটরের (সিঙ্গেল পজিটিভ-তার) মাধ্য পজিটিভ-সাপ্লাই সুবিধাজনক পয়েন্টে গাড়িতে দেয়া হয় এবং রেল-ট্রাক রিটার্ন-পথ হিসেবে কাজ করে। ট্রাম-গাড়িতে অন্তত দু ড্রাইভিং অ্যাক্সেল থাকে, এতে সংযুক্ততা এবং গাড়ির উভয় প্রান্ত থেকে কন্ট্রোল সহজতর হয়।

কায় যে-কোন এক প্রান্ত থেকে কন্ট্রোল করা যায়। ম্যাগনেটিক-ব্রেক ব্যবস্থায় ব্রেকিং সিস্টেম করা যায়, এ ইলেকট্রোম্যাগনেট ব্যবহার করা হয়। ট্রাম-ওয়ের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হল স্থাপিত রেল-ট্রাক সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা অপরদিকে ট্রাম-ওয়ের স্থায়িত্ব ট্রলি-কারের চেয়ে বেশি।

ট্রলি-বাসে: কোলাহলপূর্ণ এলাকায় গাড়ি শিল ও দক্ষতার সাথে চলাচল করতে সক্ষম হয় না, সেক্ষেত্রে লি-বাস এখােপযুক্তভাবে চলাচল করতে পারে। ট্রলি-বাসে বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি; এতে (60) ভোল্ট ডিসি দুটি ওভারহেড কনট্যাক্ট থেকে দুটি কালেকটরের মাধ্যমে গাড়িতে রবরাহ করা হয়। ট্রলি-বাসে কোন ট্র্যাক (Track) স্থাপনা করা হয় না। ট্রলি-বাসে সুবিধা হলো এলি-ওয়্যারের মাঝ-লাইন থেকে  Both পার্শে কয়েক মিটার পর্যন্ত প্রয়োজনে অবস্থান পরিবর্তন করে কৌশলের সঙ্গে চলাচল করতে পারে।

রাস্তা থেকে ট্রলি-বাসের রাবারের চাকা সংস্পর্শ, বেশ উচুতে থাকে বলে শুধুমাত্র একটি ড্রাইভিং-অ্যাক্সেল ও একটি মােটর ব্যবহার করা হয়। এই ক্ষেত্রে একটি 50KW থেকে 100 kW আউটপুট সম্পন্ন ডিসি কমপাউন্ড-মােটর ব্যবহৃত হয়। এই মােটরের স্পিড়-কন্ট্রোল নিম্নোক্ত উপায়ে করা হয় ?
১। শান্ট ফিল্ডে রেজিস্ট্যান্স সংযােজন করে ফিল্ডকে দুর্বল করার মাধ্যমে 
২। সিরিজ ফিল্ডে ট্যাপিং ব্যবহার করে। 
৩। সিরিজ ফিল্ডে ডাইভার্টার ব্যবহার করে। মাস্টার-কন্ট্রোলার “পদদ্বয়” দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যার ফলে ড্রাইভার হাত দ্বারা স্টিয়ারিং ও হ্যান্ড-ব্রেক চালনা করতে পারে । একটি পেডাল (Pedal) দ্বারা স্টার্টিং, স্পিড-কন্ট্রোল এবং রিজেনারেটিভ ব্রেকিং নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং দ্বিতীয় পেডাল দ্বারা রিওস্ট্যাটিক ও কমপ্রেসড-এয়ার-ব্রেক নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ট্রলি-বাসে রিজেনারেটিভ-ব্রেকিং খুব কম ব্যবহার করা হয় । ব্রেকিং-এর ক্ষেত্রে সাধারণত স্ট্যাবলাইজড-রিওস্ট্যাটিক ব্রেকিং ব্যবহৃত হয়। ট্রলি-বাসের বডি আর্থ থেকে ইনসুলেটেড অবস্থায় থাকে। ট্রলিবাসের বডি আর্থ থেকে সঠিক ইনসুলেটেড অবস্থায় আছে কি না তা প্রায়ই চেক করা হয়। ট্রলি-বাস অধিক যাত্রী বহন করতে পারে এবং শহরে মধ্যম ধরনের ট্রাফিক-এরিয়ায় উপযুক্তভাবে চলতে পারে।

ট্র্যাকশন পদ্ধতিতে ডিসির ব্যবহার- The DC system used in traction:
ট্র্যাকশন পদ্ধতিতে ডিসি সিস্টেমে ডিসি সিরিজ মােটর ব্যবহৃত হয়। অবশ্য রিজেনারেটিভ ব্রেকিং প্রয়ােগ প্রয়ােজন হলে কম্পাউন্ড মােটর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ট্রামওয়ে ও শহরতলীর রেলওয়ের ক্ষেত্রে 600 ভােল্ট এবং প্রধান রেলওয়ের ক্ষেত্রে 1500 ভােল্ট থেকে 3000 ভােল্ট, ব্যবহৃত হয় । ড্রাইভিং-মােটরগুলো ডিস্ট্রিবিউশন-সিস্টেমে একটি কন্ট্যাক্ট-ওয়্যার (Contact wire) এবং ট্রলি-বাসে দুটি কন্ট্যাক্ট-ওয়্যার ব্যবহৃত হয়। ট্রান্সওয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত রেললাইন কারেন্টের রিটার্নিং-পথি হিসেবে কাজ করে । 

ডিসি সাপ্লাই, সাবস্টেশন থেকে অথবা ছােট দৈর্ঘ্যের রেলপথের ক্ষেত্রে ডিসি জেনারেটিং-স্টেশন হতে পেয়ে থাকে। সাবস্টেশনগুলাের দূরত্ব 600 ভােল্টের ক্ষেত্রে 3 থেকে 4 কিলােমিটার অন্তর-অন্তর এবং 1500V-3000V এর ক্ষেত্রে 15 থেকে 40 কিলােমিটার পর পর হয়ে থাকে। সাবস্টেশনগুলাে বাইরে থেকে ফ্রিফেজ এসি গ্রহণ করে এবং রােটারি-কনভার্টার অথবা মার্কারি-আর্ক রেকটিফায়ারের মাধ্যমে প্রয়ােজনীয় ডিসি সরবরাহ দেয়।

ডিসি সিস্টেমের সুবিধাসমূহ:
 ১। সিস্টেমে ব্যবহৃত ডিসি মােটরের বৈশিষ্ট্য উন্নতমানের থাকে;
২। মেরামত খরচ কম;
৩। প্রতি কিলােওয়াট আউটপটে মােটরের ওজন তুলনামূলকভাবে কম হয়।

অসুবিধাসমূহ (Disadvantages) 
১। অপারেটিং-ভােল্টেজ কম হওয়ার কারণে বেশি প্রস্থচ্ছেদের কন্ডাকটর ব্যবহার করতে হয়; 
২। সাবস্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হয়; 
৩। সাবস্টেশন স্থাপন খরচ বৃদ্ধি পায় এবং কনভাটিং-মেশিনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে খরচও বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। 
৪। অতিরিক্ত নেগেটিভ-বুস্টার (Negative-booster)-এর কারণে খরচ বৃদ্ধি পায়।

ট্র্যাকশনে ডিসি সিরিজ-মােটর ব্যবহারের কারণ-
যদি অন্যান্য মােটরের সাথে ডিসি সিরিজ-মােটরের বৈশিষ্ট্য তুলনা করা হয়, তবে নিঃসন্দেহে এটাই প্রমাণিত হবে যে,। এত ট্র্যাকশনের প্রয়ােজনে ডিসি সিরিজ-মােটর অত্যন্ত উপযােগী। নিম্নে তার কারণসমূহ প্রদত্ত হল:
১। যে-কোন মােটরের তুলনায় ডিসি সিরিজ-মােটরের স্টার্টিং-টর্ক অত্যন্ত বেশি। 
২। সিরিজ-মােটরের গতিবেগ আপনা-আপনিই হ্রাস পায়, যদি টর্ক বৃদ্ধি পায়। অতএব মােটরের ওভারলােডিং-এর সম্ভাবনা
হ্রাস পায়। 
৩। সিরিজ-মােটরের মুক্ত-ধাবমান গতিবেগ অত্যন্ত বেশি।

ট্র্যাকশনে ব্যবহৃত এক-ফেজ এসি পদ্ধতি (1-phase AC system used in traction):
ট্র্যাকশনে সিঙ্গেল-ফেজ সিস্টেমে এসি সিরিজ-মােটর ব্যবহৃত হয়।
এ ধরনের ডিস্ট্রিবিউশন-নেটওয়ার্ক 15000 ভােল্ট হতে 25000 ভােল্ট এবং 16হার্টজ থেকে 25Hz এ কাজ করে, যা পরবর্তীতে লােকোমােটিভে ব্যবহারের জন্যে 300 ভােল্ট থেকে 400 ভােল্টে আনয়ন করা হয়। পরবর্তীতে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার মারফত ভােল্টেজ কমিয়ে সিরিজ-মােটরে দেয়া হয়। বেশি দূরত্বের লাইনের জন্যে ডিস্ট্রিবিউশন-নেটওয়ার্কে 50 থেকে 80 কিলােমিটার অন্তর-অন্তর ট্রান্সফরমার সাবস্টেশন বসানাে হয়ে থাকে। 

এই সাবস্টেশনগুলাে হাই-ভােল্টেজ গ্রহণ করে এবং আউটপুটে প্রয়ােজনমতাে ভােল্টেজ কমিয়ে দেয়া হয়। এ ছাড়া ফ্রিকুয়েন্সি-কনভার্টার দ্বারা ফ্রিকুয়েন্সি কমানাে হয়। সিরিজ-মােটর যাতে দক্ষতাপূর্ণভাবে কাজ করতে পারে সে জন্যে ফ্রিকুয়েন্সি কমানাে হয়। সিঙ্গেল-ফেজ এসি সিস্টেম, মেইন-লাইন সার্ভিসে ব্যবহার করা হয়, যেখানে ওভারহেড স্ট্রাকচার খরচ বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং গাড়ির দ্রুত চলাচল ও থামা তত গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ট্র্যাকশনে ব্যবহৃত তিন-ফেজ এসি পদ্ধতি 3-phase AC system used in traction:
ট্র্যাকশনে তিন-ফেজ এসি সিস্টেমে তিন-ফেজ ইন্ডাকশন মােটর ড্রাইভিং পাওয়ারের জন্যে ব্যবহার করা হয়। এই ক্ষেত্রে মােটরের অপারেটিং-ভােল্টেজ 3600 ভােল্ট ও ফ্রিকুয়েন্সি 16হার্টজ হয়ে থাকে। ডিস্ট্রিবিউশন-সিস্টেমে ওভারহেডে দুটি ফেজ-তার এবং রেল-ট্রাকে তৃতীয়-ফেজ থাকে। 

সাপ্লাই সাবস্টেশনের জেনারেটিং সিস্টেম থেকে সরাসরি পাওয়ার আসে। সাবস্টেশনগুলাে বাইরে থেকে হাই-ভােল্টেজ গ্রহণ করে, যা পরবর্তীতে ভােস্টেজ স্টেপ-ডাউন করা হয় এবং ফ্রিকুয়েন্সিও পরিবর্তন করা হয়। পাহাড়ি এলাকায় এই সিস্টেম ব্যবহার করা হয়, কেননা এখানে আউটপুট পাওয়ার বেশি লাগে। এ ধরনের সিস্টেমে দুটি ওভারহেড-কন্ডাকটর থাকে এবং এই সিস্টেম পরিচালনা করা অসুবিধাজনক বলে বেশি ব্যবহৃত হয় না।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post