মােটরের কন্ট্রোল পদ্ধতি - Electric motor control system

রিওস্ট্যাটিক কন্ট্রোল পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধাসমূহ:

সুবিধাসমূহ- পরিবর্তনশীল রেজিস্ট্যান্সের মাধ্যমে এ পদ্ধতিতে সহজেই মােটরের গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় । এ পদ্ধতিতে মােটরের গতিবেগ শূন্যমান থেকে এর স্বাভাবিক সর্বোচ্চমান পর্যন্ত সমভাবে পরিবর্তন করা যায়। এ পদ্ধতিতে গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জটিলতা ও যন্ত্রপাতির খরচ কম।


অসুবিধাসমূহ- রিওস্ট্যাটের সাহায্যে আর্মেচারে প্রয়ােগকৃত ভােল্টেজ থেকে হাস করা যায় কিন্তু বৃদ্ধি করা যায় না। তাই মােটরের গতিবেগ স্বাভাবিক গতিবেগ অপেক্ষা কম করা যায় কিন্তু বাড়ানাে যায় না। মােটরের গতিবেগ কন্ট্রোলিং রেজিস্ট্যান্স ছাড়াও লােড কারেন্টের উপর নির্ভর করে। কাজেই নির্ভরশীলতার কারণে

মােটরের গতিবেগ পরিবর্তনশীল লােডে স্থির রাখা বেশ কঠিন হয়। রিওস্ট্যাটে পাওয়ার অপচয় হওয়ায় মােটরে সর্বোচ্চ পাওয়ারের পরিমাণ কম হয়। কন্ট্রোলিং রেজিস্ট্যান্সে প্রচুর পাওয়ার অপচয় হয়। আর পাওয়ার অপচয় সরাসরি গতিবেগের সমানুপাতিক। সুতরাং দক্ষতা হ্রাস পায়।


সিরিজ এবং শান্ট মােটরের ইলেকট্রিক ব্রেকিং (Electric braking of shunt and series motors)

ফ্রিকশন-ব্রেকিং অথবা ইলেকট্রিক-ব্রেকিং ব্যবহার করে লােডসহ একটি মােটরকে দ্রুত থামানাে যায়। সাধারণভাবে ব্যবহৃত ফ্রিকশন বা যান্ত্রিক ব্রেকিং-এর একটি বড় অসুবিধা হল এই যে, এটা দ্বারা মসৃণভাবে থামানাের কাজ বড়ই কঠিন। কারণ এটাতে ব্রেকিং-এর উপরিভাগের অবস্থা যেমন নির্ভর করে, তেমনি চালকের দক্ষতাও।

তিন ধরনের বৈদ্যুতিক ব্রেকিং পদ্ধতি আছে, যথা

১। রিওস্ট্যাটিক বা ডাইনামিক ব্রেকিং,

২। প্লাগিং বা রিভার্স কারেন্ট ব্রেকিং,

৩। রিজেনারেটিভ ব্রেকিং ।


রিওস্ট্যাটিক বা ডাইনামিক ব্রেকিং

শান্ট মােটর: এই পদ্ধতিতে শান্ট মােটরের আর্মেচারকে সাপ্লাই-সংযোগ হতে বিচ্ছিন্ন করে একটি পরিবর্তনশীল রেজিস্ট্যান্সের (R) আড়াআড়িতে সংযােগ করা হয়, যা চিত্রে দেখানাে হয়েছে। ফিল্ড-ওয়াইন্ডিং যথারীতি সাপ্লাই-এর আড়াআড়িতেই যুক্ত থাকবে। রেজিস্ট্যান্স R-কে পরিবর্তন করে ব্রেকিং-এর কাজটি করা হয়। নিশ্চিতভাবেই এই পদ্ধতিতে একটি মােটরের সে জেনারেটর ক্রিয়া ব্যবহার করে এটাকে থামানাের কাজটি করা হয়।


সিরিজ মােটর: এই পদ্ধতিতে, শান্ট মােটরের ন্যায় সিরিজ মােটরকে সাপ্লাই হতে বিচ্ছিন্ন করে ফিল্ড-সংযােগ উল্টিয়ে দিতে হয় এবং মােটরের সাথে একটি পরিবর্তনশীল রেজিস্ট্যান্স সিরিজে সংযােগ করতে হয়, যা চিত্রে দেখানাে হয়েছে। এখন মােটরটি অবশ্যই। 9 জেনারেটর হিসেবে চলতে থাকবে। ফিড-সংযােগ উল্টিয়ে দেয়া হয় এ কারণে যে, অবশিষ্ট চুম্বকত্বকে সাহায্য করার জন্যে ফিল্ড ওয়াইন্ডিং-এর মধ্য দিয়ে কারেন্ট পূর্বের ন্যায় একই দিকে (অর্থাৎ M হতে N এর দিকে) প্রবাহিত হয়


এলিভেটর, প্রিন্টিং প্রেস, রি-রােলিং মিল, মেশিন টুলস ইত্যাদির নিয়ন্ত্রণের জন্যে সাধারণত এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতি চিত্রে দেখানাে হয়েছে। এই পদ্ধতিতে আর্মেচার টার্মিনালের সংযােগ উল্টিয়ে দেয়া হয়, যাতে মােটর বিপরীতদিকে ঘূর্ণনের প্রবণতা দেখায়। আর্মেচার সংযােগ উল্টা হওয়ার কারণে প্রয়ােগকৃত ভােল্টেজ V এবং Es, সার্কিটে একই দিকে ক্রিয়া করতে আরম্ভ করে। আর্মেচার কারেন্টকে একটি সীমিত মানের মধ্যে রাখার জন্যে আর্মেচার সংযােগ উল্টিয়ে দেয়ার সময় আর্মেচার-সার্কিটে একটি পরিবর্তনশীল রেজিস্টর সিরিজে সংযােগ করা হয়। | রিওস্ট্যাট ব্রেকিং-এর চেয়ে প্লগিং-এ বেশি টর্ক পাওয়া যায়। প্লগিং-এর সময় সাপ্লাই হতে পাওয়ার গ্রহণ করে এবং এই পাওয়ার রেজিস্টর ২ কর্তৃক তাপ হিসেবে বিকিরণ করে। এখানে উল্লেখ্য যে, যখন মােটর শূন্য গতিবেগে পৌছে, তখনও কিছু ব্রেকিং টর্ক থাকে।


সিরিজ মােটরের প্লগিং ব্রেকিং প্রয়ােগ | সিরিজ মােটরের ক্ষেত্রেও শান্ট মােটরের অনুরূপ এই পদ্ধতিতে আর্মেচার সংযোেগ উল্টিয়ে দেয়া হয় এবং সার্কিটে একটি পরিবর্তনশীল রেজিস্টর R সিরিজে সংযােগ দেয়া হয়, যা চিত্রে দেখানাে হয়েছে।


শান্ট মােটর- Shunt motor: শান্ট মােটরের রিজেনারেটিভ ব্রেকিং প্রয়ােগ, এই পদ্ধতি চিত্রে দেখানাে হয়েছে। রিজেনারেশন সংঘটিত হয় তখন, যখন ব্যাক ই.এম.এফ. (E%) টার্মিনাল এ ভােল্টেজের (V) চেয়ে বেশি হয় এবং এটা ঘটে তখন, যখন ওভারলিং (উপরে টেনে উঠানাে) লােড প্রাইমমুভার হিসেবে কাজ ক করে এবং মেশিনকে জেনারেটর হিসেবে চালনা করে। অতএব আর্মেচার কারেন্টের (1) অভিমুখ তথা আর্মেচার টর্ক উল্টে যায় এবং = গতিবেগের পতন ঘটে, যে পর্যন্ত না Ep, v-এর সমান হয়। নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে পাওয়ার পতনের মুহূর্তে লােডকে ধরে রাখার জন্যে কিছু যান্ত্রিক ব্রেক থাকা প্রয়ােজন ।


সিরিজ মােটরে এই ধরনের ব্রেকিং কোন সংশোধন ছাড়া সম্ভব নয়। কারণ আর্মেচার-কারেন্ট উল্টে যাওয়ার অর্থ ফিল্ডের তথা ব্যাক ই.এম.এফ. (E%)-এর পরিবর্তন।

এই পদ্ধতি ট্র্যাকশন মােটরে অনেক সময়ে ব্যবহৃত হয়।


ডিসি মােটরের জন্যে স্টার্টারের প্রয়ােজনীয়তা: স্টার্টারের পরিবর্তে শুধুমাত্র মেইন সুইচের সাহায্যে ডিসি মােটর চালাতে গেলে স্থির অবস্থাতেই আর্মেচারে সম্পূর্ণ লাইন ভােল্টেজ আরােপিত হয়। প্রথমে স্থির অবস্থায় মােটরের আর্মেচারে কোন ব্যাক্ ই.এম.এফ-ই থাকে না। সেজন্যে আর্মেচার রেজিস্ট্যান্স খুব কম হওয়ায় তাতে সম্পূর্ণ লাইন ভােল্টেজ প্রয়ােগ করলে প্রচুর কারেন্ট যাবে।


এই অত্যধিক ফারেন্টের জন্যে কমটেটরে ভয়ানক অগ্নিস্ফুলিঙ্গ দেখা দিবে এবং ব্রাশ পুড়ে যাবে। আর্মেচার কয়েলগুলােও পুড়ে যেতে পারে। সেজন্যে এই স্টার্টিং কারেন্টকে একটি নিরাপদ সীমার মধ্যে রাখবার জন্যে স্টার্টিং-এর সময় আর্মেচারের সঙ্গে সিরিজে রেজিস্ট্যান্স "পয়ে দেয়া হয় এবং সেই কাজটি স্টার্টারের মাধ্যমেই করা হয়। মােটর চলতে আরম্ভ করলে ব্যাক ই.এম.এফ.-ও বাড়তে থাকবে। তখন ক্রমে ক্রমে রেজিস্ট্যান্স কমিয়ে দিয়ে মােটরকে তার স্বাভাবিক গতিবেগে আনতে হয়।


ডিসি মােটরে তিন-প্রান্ত ও চার-প্রান্ডওয়ালা স্টার্টারের ব্যবহার:

এরূপ একটি স্টার্টারের অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং চিত্রে দেখানাে হয়েছে। স্টার্টার বাক্সের তিনটি প্রান্ত (Terminal) এবং C অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

লাইনের পজিটিভ টার্মিনাল স্টার্টারের A টার্মিনালের সাথে এবং নেগেটিভ টার্মিনাল মােটরের ফিল্ড ও আর্মেচারের কা টার্মিনালের সাথে সংযােগ করা হয়েছে। তারপর স্টার্টারের B টার্মিনাল মােটরের ফিল্ড টার্মিনালের সাথে এবং স্টার্টারের C টার্মিনাল - মােটরের আর্মেচার টার্মিনালের সাথে সংযােগ করা হয়েছে।


স্টার্টারের ভিতরে A টার্মিনাল সরাসরি ওভারলােড রিলিজ (M)-এর মাধ্যমে স্টার্টিং আর্ম বা হাতলের (L) সঙ্গে কানেকশন থাকে। প্রথমে মেইন সুইচ অন' (ON) করার পর হাতলটি ‘অফ (OFF) অবস্থায় থাকলে আর্মেচারের সিরিজে স্টার্টিং রেজিস্ট্যান্সের সাথে কোন রকম সংযােগ হয় না এবং পিতলের তৈরি প্লেটের (Arc) মাধ্যমে ফিল্ড সার্কিটেও কোন সংযােগ হয় না এবং হাত ডানদিকে ঘুরিয়ে স্টার্টিং রেজিস্ট্যান্সের ১ নং ঘাটের সাথে যুক্ত করলে, স্টার্টিং রেজিস্ট্যান্স ও পিতলের প্লেটের মাধ্যমে যথা| আর্মেচার ও ফিল্ড সার্কিটের সাথে সংযােগ হয়। ফিল্ড সার্কিট পুরােপুরি লাইনের সাথে আড়াআড়ি থাকার জন্যে ‘নাে-ভােল্ট (E) চুম্বকত্ব প্রাপ্ত হবে। এখন আর্মেচারের স্টার্টিং কারেন্ট হবে |


এখানে R1 ও R2 যথাক্রমে আর্মেচার ও স্টার্টিং, রেজিস্ট্যান্স। তারপর হাতলটিকে আরও ডানদিকে ঘুরে একের পর এক ঘাট। পরিবর্তন করে যখন সর্বশেষ ‘অন' (ON) অবস্থায় আনা হবে, তখন আর্মেচার সার্কিটে আর কোন সাটিং রেজিস্ট্যান্স থাকবে না। অর্থাৎ পুরাে লাইন ভােল্টেজ আর্মেচারে আরোপিত হবে। হাতলটিকে একটি শক্ত প্রিং-এর বিপক্ষে টেনে 'অন' অবস্থায় আনা হয়। হাতলটি যাতে আবার স্প্রিং-এর টানে অফ (OFF) অবস্থায় ফিরে না আসতে পারে, সেজন্য হাতলে একটি লৌহখণ্ড (S) লাগানাে থাকে, যাকে ‘নো- ভােল্ট' রিলিজ (B)-এর চুম্বকত্ব শক্তির আকর্ষণে ধরে রাখতে পারে।


এই 'নাে ভােল্ট রিলিজ'-কে আবার 'হােন্ডঅন-কয়েল' (Hold on coil) বা লাে-ভােল্ট রিলিজ'-ও (Low volt release) বলা হয়। এই লাে-ভােল্ট ) রিলিজের আর্মেচারটি (E) । একটি বৈদ্যুতিক চুম্বক। এর কাজ হচ্ছে, মােটর চালু অবস্থায় হাতলকে ‘অন' অবস্থায় ধরে রাখা। কোন সময় যদি সাপ্লাই না থাকে ৰা সাপ্লাই ভােল্টেজ খুব কমে যায় কিংবা ফিল্ড-সার্কিট আবদ্ধ (Closed) না থাকে, তাহলে লাে-ভােল্ট রিলিজ-এর আর্মেচারটি ম্যাগনেটাইজড হতাে না।


ফলে পরে হাতলটিকে ছেড়ে দিবে এবং প্রিং-এর টানে হাতলটি 'OFF' অবস্থায় চলে আসবে। এর ফলে। আবার সাপ্লাই আসলে স্টার্টিং রেজিস্ট্যান্স ছাড়া মােটর চালু হতে পারবে না। অর্থাৎ মােটর বিপদমুক্ত থাকবে। হােন্ড-অন কয়েল'-কে। ফিল্ড সার্কিটের সাথে সিরিজে রাখার একটি সুবিধা হল এই, যে-কোন সময় তা ওপেন হয়ে গেলে মােটরের গতিবেগ অত্যধিক। বেড়ে যাওয়ার আগেই হাতলকে ছেড়ে দিয়ে মােটরের সম্ম সার্কিটকে সাপ্লাই হতে বিচ্ছিন্ন করে দিবে।


ওভারলােড রিলিজ’-এর আর্মেচারটিও (M) একটি বৈদ্যুতিক চুম্বক এবং তার কয়েলটি সাপ্লাই লাইনে আর্মেচারের সাথে সিরিজে সংযােগ করা থাকে। মােটর কোন সময় ওভারলােডে চললে অতিরিক্ত কারেন্ট ওভারলােড রিলিজ’-এর ভিতর দিয়ে যাবে। ফলে তার । চৌম্বক বল বৃদ্ধি পাবে এবং D-বাহুকে স্প্রিং-এর টানের বিরুদ্ধে আকর্ষণ করবে। এর ফলে ab পয়েন্টে লাে-ভােল্ট রিলিজ' শর্ট হয়ে । গেলে তা আর ম্যাগনেটাইজড হতে পারবে না এবং সঙ্গে সঙ্গে হাতলকে ছেড়ে দিয়ে সমগ্র সার্কিটকে সাপ্লাই হতে বিচ্ছিন্ন করে দিবে।


ফোর-পয়েন্ট ফেস-প্লেট স্টাটার (Four-point face-plate starter): মােটরের গতিবেগ বাড়াতে হলে ফিল্ড-সার্কিটের রেজিস্ট্যান্স বাড়াতে হয়। ফলে ফিল্ড কারেন্ট কমে যায়। ফিল্ড কারেন্ট কমে গিয়ে এমন হতে পারে যাতে ঐ কারেন্টের দ্বারা নন-ভােল্ট রিলিজে যে চৌম্বক-বল সৃষ্টি হবে, তা হাতলকে নাও ধরে রাখতে পারে। সেজন্যে যে সব মােটরের গতিবেগ সর্বদাই পরিবর্তন করা হয়, সেখানে থ্রি-পয়েন্ট স্টার্টারের পরিবর্তে ফোর-পয়েন্ট স্টার্টার ব্যবহার করা হয়।


থ্রি-পয়েন্ট স্টার্টার এবং ফোর-পয়েন্ট স্টার্টারের মধ্যে একটিমাত্র পার্থক্য এই যে, এখানে ‘নাে-ভােল্টেজ রিলিজ' কয়েল গিয়ে কােন কাজে লিন্ডের সাথে সিরিজে না থেকে অতিরিক্ত একটি পথে সরাসরি সাপ্লাই লাইনের আড়াআড়ি সংযােগ করা থাকে। লাে-ভােল্ট রিলিজে কারেন্ট সীমিত রাখার জন্যে তার সাথে সিরিজে একটি রেজিস্ট্যান্স (R) সংযােগ করা থাকে। ফোর-পয়েন্ট স্টার্টারের সাথে একটি লং-শান্ট কমপাউন্ড মােটরের কানেকশন দেখানাে হয়েছে।


হাতলকে OFF অবস্থা হতে ডানদিকে ঘুরিয়ে স্টার্টিং রেজিস্ট্যান্সের প্রথম ঘাটে সংযােগ করলে লাইন কারেন্ট এই ক্ষেত্রে থ্রি| পয়েন্ট স্টার্টারের মতাে দুই ভাগ হয়ে তিন ভাগে বিভক্ত হবে-

(১) একটি পথে স্টার্টিং রেজিস্ট্যান্সের মাধ্যমে আর্মেচারে।

(২) দ্বিতীয় পথে শান্ট ফিল্ড ওয়াইন্ডিং-এ এবং

(৩) তৃতীয় পথে ‘নাে-ভােল্ট রিলিজ' ও রেজিস্ট্যান্সের (R) ভিতর দিয়ে যাবে।

এখন গতিবেগ পরিবর্তনের জন্যে শান্ট ফিন্ড সার্কিটে রেজিস্ট্যান্স বেড়ে ঐ সার্কিটে কারেন্ট কমালেও লাইনে ‘নাে-ভােল্ট রিলিজ'-এর। _ আলাদা সার্কিট থাকায় তার কাজে কোন অসুবিধা হবে না।


ডিসি মেশিনের হিটিং এবং কুলিং: একটি ডিসি মেশিনে বিভিন্ন ধরনের এনার্জি লস হয়, যা শেষ পর্যন্ত তাপে রূপান্তরিত হয়। ফলে তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটে, যা মেশিনের বিভিন্ন অংশের (Parts) তাপ-শােষণ ক্ষমতা এবং (২) মেশিনের উপরিভাগ হতে তাপ বিকিরণের সুযােগ-সুবিধার উপর নির্ভর করে। মেশিন চলার প্রারম্ভেই তাপমাত্রা খাড়াভাবে অর্থাৎ দ্রুত বৃদ্ধি পায়, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তা স্থিরাবস্থায় আসে। সেই সময় তে তাপমাত্রায় কোন বৃদ্ধি ঘটে না, কারণ যে হারে তাপ উৎপন্ন হয় ঠিক সেই একই হারে তাপ বিকিরণ হয়।


ডিসি মােটরে ব্রেক-টেস্ট এবং নাে-লােড টেস্ট : ব্রেক-টেস্ট দ্বারা মােটরের কর্মদক্ষতা (Efficiency) পরীক্ষা করা হয়। ব্রেক টেস্টের একটি সহজ ও সরাসরি পদ্ধতি দেখানাে হয়েছে এবং এই পদ্ধতিটি মােটর শ্যাফটের উপর স্থাপিত পানি দ্বারা শীতলীকৃত পুলি দ্বারা গঠিত। ব্রেক বন্ধনীটি পুলিকে কাঠের ব্লকের। সাহায্যে দৃঢ়ভাবে আটকানাে হয়। বন্ধনীটির এক প্রান্ত স্প্রিং-ব্যালেন্স (S) হয়ে মাটিতে আটকানাে হয় এবং অপর প্রান্তের সাথে একটি ঝুলভ ওয়েট (W) দেয়া থাকে। যখন মােটর চলতে থাকে, তখন এর লােড সুবিন্যস্ত করতে হয় যে পর্যন্ত না মােটর পূর্ণ লােড কারেন্ট বহন করে।


উপরের বর্ণিত সহজ-সরল ব্রেক টেস্টটি শুধুমাত্র ছােটখাটো মােটরের জন্যেই প্রযােজ্য। কারণ বড় বড় মােটরের ব্রেকে যে প্রচুর। আমাণে তাপ উৎপন্ন হয়, তা বিতাড়ন করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার।


প্রনি-ব্রেক টেস্ট: ফ্রান্সের বিজ্ঞানী মেরি রিচি প্ৰনি (Marie Riche Prony) এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন বলে এই পদ্ধতির নামকরণ করা হয়েছে প্রনি-ব্রেক টেস্ট

নির্দিষ্ট লােডে মােটরের কর্মদক্ষতা পরিমাপের জন্যে এই পদ্ধতিটি প্রায়ই ব্যবহৃত হয়। চিত্রে প্রনি ব্রেক টেস্টের একটি চিত্র দেখানাে হয়েছে। মােটর শ্যাফটের সাথে সংযুক্ত একটি পুলির চারিদিকে একটি রশি পেচানাে থাকে, যার দুই প্রান্তে দুটি স্প্রিং-ব্যালেন্স (S1; এবং S2) সংযুক্ত থাকে। সুইডেলের সাহায্যে রশির টান tension সুবিন্যস্ত করা যায়। অতএব, স্পর্শকভাবে পুলির উপর ক্রিয়াশীল বল (Force), দুটি স্প্রিং ব্যালেন্সের পার্থক্যের সমান। যদি পুলির ব্যাসার্ধ R হয়, তবে পুলিতে ক্রিয়াশীল টর্ক, - Tsh= (S1, -S2)R


স্যার জেমস সুইনবার্ন (1858–1958) এই পরীক্ষাটি উদ্ভাবন করেন বিধায় এই টেস্টের নাম সুইনবার্ন (Swinburn) টেস্ট।

এই টেস্টটি একটি সহজ পরােক্ষ পদ্ধতি যাতে লসসমূহ পৃথকভাবে পরিমাপ করা যায় এবং তার আলােকে কাঙ্ক্ষিত লাে পূর্বাহেই দক্ষতা (Efficiency) নির্ণয় করা যায়। প্রয়ােজনীয় একমাত্র চলমান পরীক্ষাই হল এই নাে-লােড টেস্ট। এই টেস্ট সেই সকল মেশিনের জন্যে প্রযােজ্য, যে সকল মেশিনে (অর্থাৎ শান্ট এবং কম্পাউন্ড মেশিন) ফ্লাক্স মােটামুটি স্থির।


 ডিসি মােটরের নো-লােড টেস্ট মেশিনকে নির্ধারিত ভােল্টেজে লােডবিহীন অবস্থায় চালাতে হয় এবং শান্ট রেগুলেটরের সাহায্যে মােটরের গতিবেগকে সুবিন্য

করতে হয়, যা চিত্রে দেখানাে হয়েছে। অ্যামিটার A এবং A এর সাহায্যে যথাক্রমে নাে-লােড় কারেন্ট (lo) এবং শান্ত ফিল্ড কারেন্ট (I) পরিমাপ করতে হয়।

নাে-লােড আর্মেচার কারেন্ট, Ia = l0 – Ish

ধরা যাক,

সাপ্লাই ভােল্টেজ = V

নাে-লােড ইনপুট = VIsh watt 

আর্মেচারে ইনপুট পাওয়ার = V (I0-Ish


সুবিধাসমূহ

১। সুইনবার্ন পদ্ধতি একটি সুবিধাজনক এবং মিতব্যয়ী পদ্ধতি, কারণ একটি বৃহৎ মেশিনেও পরীক্ষার জন্যে স্বল্প পাওয়ার ব্যয় হয় অর্থাৎ শুধুমাত্র নাে-লােড ইনপুট পাওয়ার।

২। যে-কোন লােডেই দক্ষতা পূর্বাহেই নির্ণয় করা যায়, কারণ কনস্ট্যান্ট লস-সমূহ জানা থাকে।


অসুবিধাসমূহ

১। নাে-লােড হতে ফুল-লােডে আয়রন লসের পরিবর্তনের কোন হিসেব রাখা হয় না। ফুল-লােডে আর্মেচার রিয়্যাকশনের কারণে ফ্লাক্সের বিকৃতি ঘটে, যা আয়রন লসকে 50% পর্যন্ত বৃদ্ধি করে।

২। যেহেত পরীক্ষাটি নাে-লােড ভিত্তিতে হয়, সেহেতু ফুল-লােডে কমুটেশন সন্তোষজনক হবে কি না এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি বারিত সীমার মধ্যে থাকবে কি না, এটা জানা সম্ভব হয় না।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post