ডিসি জেনারেটরের আর্মেচার রিয়্যাকশন এবং কমুটেশন

ডিসি জেনারেটরের আর্মেচার রিয়্যাকশন এবং কমুটেশন

যখন ডিসি মেশিনের আর্মেচার চুম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে ঘুরে তখন আর্মেচার পরিবাহী চুম্বক বলরেখা কর্তন করে এবং এদের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে থাকে। এই অবস্থায় আর্মেচার পরিবাহীর চতুর্দিকে চুম্বক বলরেখার সৃষ্টি হয় এবং নিজস্ব একটি চুম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। এ চুম্বক ক্ষেত্র ফিল্ডের চুম্বক ক্ষেত্রের খুব কাছাকাছি থাকায় এর উপর অনেক প্রভাব বিস্তার করে। এর ফলে ফিল্ডের চুম্বক বলরেখাগুলাে দুর্বল হয়ে যায় এবং প্রবাহ বেঁকে যায়। | এই উভয় প্রকার প্রতিক্রিয়ার ফলে ডিসি জেনারেটরে উৎপন্ন ভােল্টেজের পরিমাণ কমে যায় এবং কমুটেটর ও ব্রাশের . সংযােগস্থলে স্পর্কিং সৃষ্টি হয়।


আর্মেচার রিয়্যাকশন এবং এর প্রভাব (Armature reaction and the effect of armature reaction): আর্মেচার রিয়্যাকশন কোন কন্ডাকটরের ভিতর দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হলে সেই কন্ডাকটরের চতুর্দিকে একটি চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়। ডিসি মেশিনের পােলের চৌম্বক-ক্ষেত্রের উপর আর্মেচারের কন্ডাকটরের কারেন্ট প্রবাহজনিত চৌম্বকক্ষেত্রের প্রভাবকে আর্মেচার রিয়্যাকশন বা প্রতিক্রিয়া বলে।


একটি দু' পেল বিশিষ্ট জেনারেটর-এর আর্মেচারের কন্ডাকটরে যখন কোন কারেন্ট থাকে না, তখন ফিল্ড-পােল হতে ফ্লাক্স আর্মেচারের মধ্য দিয়ে যায়, এই ফ্লাক্স সম্পূর্ণরূপে ফিল্ডের অ্যাম্পিয়ার-টার্নের উপর নির্ভর করে। নিরপেক্ষ-তল এমন একটি তল, যা ফ্লাক্সের উপর লম্বভাবে অবস্থিত। এখানে পদ্ধতির জ্যামিতিক-তলের সাথে মিলে গেছে। ৭.১নং চিত্রের ডান-পার্শ্বে একটি ভেকটর F দেখানাে হয়েছে, যা ফিল্ড-ফ্লাক্স সৃষ্টিকারী এম.এম.এফ. (emf)-এর পরিমাণ ও

আর্মেচার রিয়্যাকশন দিক নির্দেশ করে। এই F ভেটরের সমকোণে নিরপেক্ষতল দেখানাে হয়েছে। ৭.২ নং চিত্রে ফিল্ড কয়েলে কোন কারেন্ট দেখানাে হয় নাই, কিন্তু আর্মেচার কন্ডাকটরে কারেন্ট দেখানাে হয়েছে।


ব্রাশ অ্যাক্সিস একটি পােলের নিচে সকল কন্ডাকটরে কারেন্টের দিক একই দেখানাে হয়েছে। আর্মেচারের বাম-পার্শ্বের এবং ডান-পার্শ্বের কন্ডাকটরে কারেন্ট-দিক যথাক্রমে ভিতর দিকে ব্রাশ অ্যাক্সিস এবং বাইরের দিকে দেখানাে হয়েছে। বাম ও ডান উভয় পার্শ্বে সৃষ্ট সম্মিলিত ফ্লাক্সের দিক নিম্নমুখী দেখানাে হয়েছে। ফ্লাক্সের এই দিক নির্ণয়ের জন্যে কর্ক- বিধি ব্যবহার করা হয়েছে।


যখন জেনারেটর লােড নিয়ে চলে, তখন ফিল্ড কারেন্ট এবং আর্মেচার কারেন্ট একই সঙ্গে কাজ করে, ।


এখানে আর্মেচার ফ্লাক্স উত্তর মেরুর উর্ব অগ্রভাগে এবং দক্ষিণ মেরুর নিম্ন-অগ্রভাগে ভিড় জমাচ্ছে। যেহেতু মেশিনের আর্মেচারটি দক্ষিণাবর্তে 1 ঘুরছে, সেহেতু ফ্লাক্স প্রত্যেক পপালের পশ্চাৎ দিকে ভিড়। জমাচ্ছে, ফলে পপালের পশ্চাৎভাগ শক্তিশালী এবং আর্মেচারে উৎপন্ন ফ্লাক্স অগ্রভাগ দুর্বল হয়ে পড়ছে। আর্মেচার কারেন্টের কাজ হল জেনারেটরের আবর্তনের দিকে ফিল্ডকে সরানাে, অর্থাৎ সম্মিলিত বলরেখা জেনারেটরের | এই আবর্তনের দিকে বেঁকে যায় । ৭.৩নং চিত্রের ডান পার্শ্বে ভেক্টর দ্বারা আর্মেচার রিয়্যাকশনের প্রভাব দেখানাে হয়েছে।


ফিল্ড ভেক্টর F ও আর্মেচার ভেক্টর FA কে সমকোণে একত্রিত করা এবং এর রেজাল্ট্যান্ট ফিল্ড ভেকটর Fত দ্বারা দেখানাে হয়েছে। এই F.-এর দিকই হল রেজালট্যান্ট ফ্লাক্সের দিক বা অভিমুখ । F-এর সমকোণে অবশ্যই নিরপেক্ষ-তল (Neutral plane) হবে।

ধরা যাক, M. N. A. (Magnetic Neutral Axis or Plane) 0 ডিগ্রি কোণে স্থানান্তরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশগুলােকেও M. N. A.-তে স্থানান্তরিত করতে হয়। যদি ব্রাশকে সরিয়ে দেয়া না হয়, তবে কমুটেটরে স্ফুলিঙ্গ দেখা দিতে থাকে।



ডিম্যাগনেটাইজিং এবং ক্র-ম্যাগনেটাইজিং (Demagnetizing and Cross-magnetizing): ডিম্যাগনেটাইজিং অ্যাম্পিয়ার টার্ন (Demagnetizing ampere turn) চিত্রে, জ্যামিতিক নিরপেক্ষ অক্ষের উভয় দিকে β কোণের মধ্যে আর্মেচারের উপরের দিকের কন্ডাকটরসমূহে কারেন্ট ভিতরের দিকে এবং নিচের দিকের কন্ডাকটরসমূহে কারেন্ট বাইরের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। কর্ক রুল বিধি অনুযায়ী আর্মেচারের উপরে এবং নিচে 2β কোণের মধ্যে চৌম্বক বলরেখাগুলাে ডানদিক হতে বামদিকে আবর্তিত হচ্ছে। নিচের চিত্রে 2β কোণের মধ্যকার বলরেখাগুলাে প্রধান পােলের বলরেখাগুলােকে সরাসরি বাধা দেয়। ফলে আর্মেচারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফ্লাক্স কমে যায়। এই কন্ডাকটরগুলােকে ডিম্যাগনেটাইজিং অ্যাম্পিয়ার কন্ডাকটর বলে।


প্রতি পােলে ডিম্যাগনেটাইজিং অ্যাম্পিয়ার টার্ন (Demagnetizing at per pole): যেহেতু আর্মেচার ডিম্যাগনেটাইজিং আম্পিয়ার-টার্নের কার্যকারিতা প্রধান ফিল্ড ওয়াইন্ডিং-এ অতিরিক্ত অ্যাম্পিয়ার-টার্ন যােগ করে নষ্ট করা হয়, সেহেতু এদের সংখ্যা হিসাব করা জরুরি। কিন্তু আরও অগ্রসর হওয়ার পূর্বে, এটা স্মরণ রাখা দরকার যে, টার্নের সংখ্যা কন্ডাকটরের সংখ্যার অর্ধেক, কারণ।

দুুুুুুটি কন্ডাকটর দ্বারা একটি টার্ন গঠিত হয়।

Z = আর্মেচার কন্ডাকটরের মােট সংখ্যা।

I= প্রতিটি আর্মেচার কন্ডাকটরে প্রবাহিত কারেন্ট

= 1/2 ওয়েভ ওয়াইন্ডিং-এর জন্যে

= IsP ল্যাপ ওয়াইন্ডিং-এর জন্যে।


ক্রস-ম্যাগনেটাইজিং অ্যাম্পিয়ার টার্ন (Cross-magnetizing ampere turn) : AOD এবং COB কোণদ্বয়ের অন্তর্গত কন্ডাকটরসমূহে কারেন্ট যথাক্রমে ভিতরের দিকে এবং বাইরের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে AOD কোণের অন্তর্গত কন্ডাকটরসমূহের চতুর্দিকে সৃষ্ট চৌম্বক বলরেখা বামাবর্তে এবং COB কোণের অন্তর্গত কন্ডাকটরসমূহের চতুর্দিকে সৃষ্ট চৌম্বক বলরেখা দক্ষিণাবর্তে ঘুরছে। প্রধান চৌম্বক বলরেখাসমূহকে লম্বভাবে অর্থাৎ আড়াআড়িভাবে বাধা প্রদান করছে। সেহেতু এই কন্ডাকটরসমূহকে ক্রস-ম্যাগনেটাইজিং অ্যাম্পিয়ার কন্ডাকটর বলে।


কমুটেশন ক্রিয়া এবং রিয়্যাকট্যান্স ভােল্টেজ (Commutation action and the value of reactance voltage) :

কমুটেশন (Commutation): একটি ডিসি জেনারেটরে আর্মেচার কন্ডাকটরে উৎপন্ন কারেন্ট সবসময়ই অলটারনেটিং হয় এবং । সেই কারেন্টকে বহির্সার্কিটে সমপ্রবাহী (Unidirectional) করার জন্যে কমুটেটর ব্যবহার করা হয়।


উত্তর মেরুর অধীনে আর্মেচার কন্ডাকটরে উৎপন্ন কারেন্ট যে দিকে প্রবাহিত হবে, দক্ষিণ মেরুর অধীনে পােলে সেই কন্ডাকটরের কারেন্ট ঠিক বিপরীতদিকে প্রবাহিত হবে। কারেন্টের এদিক পরিবর্তন ঘটে ঠিক চৌম্বক নিরপেক্ষ-অক্ষ বরাবর অর্থাৎ সেখানে কন্ডাকটর এক মেরুর প্রভাব হতে পরবর্তী ভিন্ন মেরুর প্রভাবে আসে। এই নিরপেক্ষ অক্ষ বরাবরই কমুটেটরের উপর ব্রাশ বসানাে থাকে।


ব্রাশ-কারেন্টের দিক পরিবর্তন হচ্ছে এমন একটি কয়েলকে শর্ট সার্কিট করে দেয়। শর্ট সার্কিট করা কয়েলে চৌম্বক নিরপেক্ষ অক্ষ বরাবর ব্রাশ ও কমুটেটরের সেগমেন্টের দ্বারা বহির্সার্কিটে কারেন্টের এই যে দিক পরিবর্তন হচ্ছে, তাকেই কমুটেশন বলে।


অথবা যে প্রক্রিয়ায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিটি কয়েলে কারেন্ট দিক পরিবর্তন করে এবং আর্মেচারে উৎপন্ন সমস্ত কারেন্ট বহির্সার্কিটে প্রেরিত হয়, তাকেই ইংরেজিতে কমুটেশন বলে। এর অর্থ হল দিক পরিবর্তন।


ডিসি মেশিনে কারেন্ট ব্রাশের মধ্য দিয়ে বহির্সার্কিটে যায় এবং ব্রাশের মধ্য দিয়েই মেশিনে ফিরে আসে। কারেন্ট কমুটেটর-সেগমেন্ট দিয়ে ব্রাশে আসে এবং এই কারেন্ট কয়েল দিয়ে বামদিক হতে ও কয়েল দিয়ে ডানদিক হতে আসে


যেহেতু আর্মেচার কমুটেটর-সহ ডানদিকে ঘুরছে, সেহেতু ৭.৬নং চিত্রে ব্রাশটির অবস্থান এখন ২নং ও ৩নং সেগমেন্টের মাঝামাঝি স্থান জুড়ে রয়েছে। ফলে কারেন্ট বামদিক হতে ২নং কয়েল দিয়ে এবং ডানদিক হতে ৩নং কয়েল দিয়ে ব্রাশে আসছে কিন্তু এই সময় খ-কয়েল দিয়ে কোন কারেন্ট আসছে না, কারণ এখন খ-কয়েলটি শর্ট সার্কিট অবস্থায় আছে।


২নং সেগমেন্ট দিয়ে কারেন্ট ব্রাশে আসছে এবং এই কারেন্ট ক-কয়েল দিয়ে বামদিক হতে ও খ-কয়েল দিয়ে ডানদিক হতে আসছে। অর্থাৎ ৭.৬নং চিত্রের সাথে ৭.৭নং চিত্রটির তুলনা করলে দেখা যাবে যে, খ-কয়েলে কারেন্ট প্রবাহের দিক সম্পূর্ণ বিপরীত হয়ে গেছে। একেই কমুটেশন বলে।


কারেন্টের এই দিক পরিবর্তন ঠিকভাবে না হলে কমুটেটরে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ দেখা দেয় অর্থাৎ যে মুহূর্তে কোন একটি সেগমেন্ট ব্রাশের অগ্রভাগ হতে বের হয়ে যায়, সেই মহূর্তে যে আর্মেচার কয়েলটির শর্ট সার্কিট শেষ হয়, সেই কয়েল দিয়ে পূর্বের বিপরীতদিকে সম্পূর্ণ কারেন্ট প্রবাহিত হওয়া চাই। যদি কারেন্ট প্রবাহের পথে কোন প্রতিবন্ধক সৃষ্টি হয় কিংবা যদি কোন কারণে উপযুক্ত কারেন্ট অপেক্ষা বেশি কারেন্ট প্রবাহিত হয়, তবে ব্রাশের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হবার সময় সেই সেগমেন্টে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ দেখা দিবে।


কমুটেটরে রিয়্যাকট্যান্স ভােল্টজ ও বৈদ্যুতিক মেশিন অত্যন্ত দ্রুত চলে বিধায় এক একটি কমুটেটর সেগমেন্টের ব্রাশের নিচে প্রবেশ করতে এবং সেখান হতে বের হয়ে যেতে খুব অল্প সময়ের প্রয়ােজন হয়। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যেই আবার আর্মেচার কয়েলে কারেন্ট দিক পরিবর্তন করে, ফলে ঐ কয়েলে এক বিরুদ্ধ ভােল্টেজ আবিষ্ট হয়। কারেন্টের সাথে চৌম্বক বল রেখারও দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে থাকে এবং সেই বলরেখা কন্ডাকটর কর্তৃক কর্তিত হয় বলে তাতে বিপরীতমুখী ভােল্টেজ আবিষ্ট হয়। এই ভােল্টেজকে ‘রিয়্যাকট্যান্স ভােল্টেজ বলে।


সেলফ-ইনডাকশন সহগ নির্ণয়ে হােট-এর ফর্মুলা (The deduction of Hobart's totala for efficient of self-induction)

একটি কয়েলের সেলফ-ইনডাকট্যান্স নির্ণয়ে মি. হােবার্ট পরীক্ষামূলক সূত্র উদ্ভাবন করেন, যা আর্মেচার স্লটে স্থাপিত কয়েল Side er দৈর্ঘ্যের (le) আংশিক এবং আর্মেচারের বাইরে বায়ুতে অবস্থিত মুক্ত দৈর্ঘ্যের (l2) আংশিক দ্বারা গঠিত। তিনি লক্ষ করলেন যে, স্বাভাবিক মাত্রার স্লটগুলােতে একটি সিঙ্গেল টার্ন কয়েলের মধ্য দিয়ে যদি কারেন্ট প্রবাহিত হয়, তবে স্লটে স্থাপিত দৈর্ঘ্যের (le) 4 wb/m এবং বায়ুতে অবস্থিত মুক্ত দৈর্ঘ্যের (L) 0.8 wb/rn ফ্লাক্স উৎপন্ন করে। 

সুতরাং, সমগ্র কয়েলটির প্রতি অ্যাম্পিয়ারে উৎপন্ন ফ্লাক্স

= (4le + 0.8/la) X 10^-6 একটি সিঙ্গেল-টার্ন কয়েলের জন্যে

= (4Nle + 0.8Nle) × 10^-6 ----N-সংখ্যক টার্ন কয়েলের জন্যে 

এখন, L = N x প্রতি অ্যাম্পিয়ারে ফ্লাক্স

Embedded

Embedded

অথবা, L = NΦ/ I


= N X (4N/e+ 0.8N/a) X 10^-6 henry

= N^2 x (4le + 0.8la) X 10^-6 H 

কয়েলের প্রতিটি পার্শ্ব (Side) একটি স্লটে থাকে, যাতে অন্য একটি পার্শ্বও থাকে, যা একই সময়ে অন্য ব্রাশের নিম্নে কমুটেশনের অধীন থাকে। অতএব, সুটে স্থাপিত দৈর্ঘ্যের কারণে ফ্লাক্স পরিবর্তন দ্বিগুণ হয়, যদিও মুক্ত দৈর্ঘ্যে মানের কোন পরিবর্তন হয় না।


কমুটেশন উন্নয়নের উপায় (The methods of improving commutation): কারণ ও প্রধানত দুটি কারণে কমুটেটরে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ দেখা দেয়, যথা :

১। আর্মেচার রিয়্যাকশনের জন্যে চৌম্বক বলরেখা বেঁকে যায়,

২। কমুটেশনের সময় আর্মেচার কয়েলে রিয়্যাকট্যান্স ভােল্টেজ উৎপন্ন হয়।


ফলাফল: কমুটেশনের সময় আর্মেচার কয়েলে যে রিয়্যাকট্যান্স ভােল্টজ উৎপন্ন হয়, যদি তাকে বাধা দেয়া না যায় বা । পূর্ণরূপে বিনষ্ট করা না যায়, তবে কয়েলটি কমুটেটরের যে সেগমেন্টের সাথে সংযুক্ত থাকে, ব্রাশের সাথে এর ছাড়াছাড়ি হবার অল্প কযুটেটরের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ অনবরত দেখা দিতে থাকলে ব্রাশ ও কমুটেটর উভয়েরই উপরিভাগ নষ্ট হয়ে যায় এবং পরিণামে অগ্নি' দ্বারা আবৃত হওয়ার ফলে সেগমেন্টগুলােতে শর্ট-সার্কিট দেখা দেয়।


প্রতিকার: মেশিন চলার সময় কমুটেটরে যাতে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ দেখা না দেয়, সেজন্যে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাসমূহ গৃহীত হয়ে পারে ১। রেজিস্ট্যান্স কমুটেশন, অর্থাৎ ব্রাশের রেজিস্ট্যান্স বৃদ্ধি করা, ২। ই.এম.এফ, কমুটেশন, অর্থাৎ কমুটেশনের সময় যে কয়েল শট-সার্কিট হয়, তাতে উপযুক্ত ভােল্টেজ সৃষ্টি করা।


আবার দু' ভাগে বিভক্ত

(ক) ব্রাশকে জ্যামিতিক নিরপেক্ষ অবস্থা হতে এগিয়ে দিয়ে, অর্থাৎ ব্রাশসমূহের অবস্থান পরিবর্তন করে ।

(খ) ইন্টারপােল বা সহায়ক-পােল বা কমুটেটিং-পােল ব্যবহার করে।


ইন্টারপোেল এবং কমপেনসেটিং ওয়াইন্ডিং-এর প্রয়ােজনীয়তা:

(ক) ইন্টারপোেল ব্যবহার করে: ডিসি মেশিনে ব্যবহৃত ইন্টারপােল, ফিল্ড পেপালের তুলনায় আকারে অনেক ছােট হয়। ইন্টারপােলকে কমুটেটিং পােল বা কমপোলও বলা হয়। ফিল্ড পােলগুলাের মধ্যবর্তী স্থানে এদের বসিয়ে ফ্রেমের সাথে নাট-বল্ট দিয়ে আটকিয়ে দেওয়া হয়।


ফিল্ড পােলের তুলনায় এই পােলগুলােতে মােটা গেজের তার দিয়ে অনেক কম সংখ্যক পাকের ওয়াইন্ডিং করা হয়। কারণ ইন্টারপােলের ওয়াইন্ডিংকে আর্মেচারের সাথে সিরিজে সংযােগ করা হয় এবং আর্মেচারের পূর্ণ কারেন্ট ইন্টারপােলের ওয়াইন্ডিং-এর ভিতর দিয়ে যায়।

ইন্টারপােলের কাজের মধ্যে একটি কাজ হল আর্মেচার-প্রতিক্রিয়ার ফলে আর্মেচারে ফিল্ড-পােলের চৌম্বক বলরেখার আড়াআড়িভাবে উৎপন্ন। চৌম্বক বলরেখাকে বিনষ্ট করা। এর ফলে ফিল্ড-পপালের চৌম্বক-বলরেখাও বিকৃত হবে না এবং এর জন্য ব্রাশকেও সরানাের প্রয়ােজন হবে না।


অর্থাৎ এই পােল ব্যবহার করলে লােডের যে-কোন অবস্থাতেই ব্রাশকে জ্যামিতিক অবস্থান নিরপেক্ষ অক্ষে রাখা চলে।


(খ) কমপেনসেটিং ওয়াইন্ডিং ব্যবহার করে



চিত্র ৭.১০ পােলের অগ্রভাগে খাজের মধ্যে কমপেনসেটিং ওয়াইন্ডিং-এর পরিবাহী বসানাে হয়েছে। আর্মেচার-রিয়্যাকশনের জন্যে পােলের চৌম্বক-বলরেখার আড়াআড়িতে বলরেখার সৃষ্টি হয়, তাকে কমাবার জন্যে পােল-সুর। তলার দিকে খাজ কেটে এই ওয়াইন্ডিং বসানাে হয়। এই ওয়াইভিং আর্মেচারের সাথে সিরিজে এমনভাবে সংযােগ করা থাকে যাতে কোন পােল-সু ’র’ নিচে আর্মেচারের কন্ডাকটরের কারেন্ট এবং ঐ পােল-সুর কমপেনসেটিং-ওয়াইন্ডিং-এর কারেন্ট পরস্পর বিপরীতমুখী হয়।


যেখানে লােড কারেন্ট প্রায়ই কমবেশি হয়, তেমন বড় বড় ডিসি মেশিনে (যেমন- রােলিং মিল মােটর, টার্বো-জেনারেটর প্রভৃতি ক্ষেত্রে) কমপেনসেটিং-ওয়াইন্ডিং ব্যবহার করা হয়।


ইকুয়ালাইজিং-বার এবং রিং-এর প্রয়ােজনীয়তা (The need for equalizing-bars and rings):

জেনারেটরের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সমান্তরাল পথে অসমান ভােল্টেজ উৎপন্ন হলে ব্রাশের মাধ্যমে (বাইরে লােড কানেকশন না । থাকলেও) তাদের পরস্পরের মধ্যে অন্তর্বর্তী তড়িৎ প্রবাহিত হবে। এর ফলে কমুটেটরের উপর আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখা দিতে পারে। বাইরের লােড কানেকশন করলে লােড কারেন্টের সঙ্গে এই অতিরিক্ত কারেন্ট লেগে ব্রাশের তড়িৎ ঘনত্বের পরিমাণও বেড়ে যাবে । সুতরাং, এ অতিরিক্ত কারেন্ট ব্রাশের মাধ্যমে বাইরে না গিয়ে যাতে আর্মেচারের মধ্যেই প্রবাহিত হতে পারে তার জন্যে প্রতি সমান্তরাল পথকে যুগপৎ কানেকশন করে দেয়া হয়। এই কানেকশনকে ইকুয়ালাইজার কানেকশন বলে।


ইনসুলেশন করা মােটা তামার বলয় দিয়ে এই কানেকশন করা হয়। এই কানেকশনের ফলে সমান্তরাল পথগুলােতে উৎপন্ন। ভােল্টেজের সমতা আসে। ব্রাশের মাধ্যমে কারেন্ট বাইরে না আসা পর্যন্ত আর্মেচারের ভিতরে তা পরিবর্তিত হতে থাকে। ইকুয়ালাইজার-কানেকশন-এর ফলে অন্তর্বর্তী কারেন্ট পরিবর্তী অবস্থাতেই আর্মেচার কন্ডাকটরে প্রবাহিত হয়।


এর ফলে কন্ডাকটরের চারদিকে যে চৌম্বক-বলের সৃষ্টি হয় তা ফিল্ডের চৌম্বক বলের উপর প্রতিক্রিয়া করে । ইকুয়ালাইজিং-কারেন্ট দ্বারা যে চৌম্বক বলের সৃষ্টি হয় তা ফিল্ডের চৌম্বক বলের উপর প্রতিক্রিয়া করে। ইকুয়ালাইজিং-কারেন্ট দ্বারা সৃষ্ট চৌম্বক-বল ফিল্ডের-চৌম্বক বল প্রবাহ যেখানে বেশি, সেখানে বাধা দিয়ে এবং যেখানে কম সেখানে সহযােগিতা করে সমান্তরাল পথগুলােকে ভােল্টেজের সমতা আনতে সাহায্য করে।


পরােক্ষভাবে ইকুয়ালাইজার-রিংয়ের এই কানেকশন দ্বারা বিভিন্ন ব্রাশের কারেন্টের সমতা রক্ষা করা যায়; যার ফলে কমুটেটরে আগুনের স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি ও রােধ করা যায়। একটি ইকুয়ালাইজার-রিংকে প্রতি দুটি পপাল অন্তর কন্ডাকটরগুলাের সঙ্গে যুগপৎ কানেকশন করতে হবে। অর্থাৎ ৪টি পােল হলে ৪/2 = 4 টি কানেকশন করতে হবে।


ওয়েভ-ওয়াইন্ডিংয়ে ইকুয়ালাইজার-কানেকশন করার প্রয়ােজন হয় না, কারণ সেখানে দুটিমাত্র সমান্তরাল পথ থাকে এবং পােলের অসমান চৌম্বক-বল সৃষ্টি হলে তা দুটি পথকেই সমানভাবে প্রভাবিত করে, যার ফলে ওয়েভ-ওয়াইন্ডিংয়ে চৌম্বক ক্ষেত্রের যে-কোন অবস্থাতেই আর্মেচারে উৎপন্ন ভােল্টেজের সমতা বজায় থাকে।

ডিসি জেনারেটরের প্যারালাল পরিচালনের জন্যে ইকুয়ালাইজারের


প্রয়ােজনীয়তা:

ডিসি শান্ট জেনারেটরের শুধুমাত্র শান্ট-ফিল্ড থাকায় এদের প্যারালালে পরিচালন ও নিয়ন্ত্রণ অপেক্ষাকৃত সহজ। লােডের কমবেশিতে এদের মধ্যে খুব মারাত্মক প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় না। তাই শান্ট-জেনারেটর প্যারালাল পরিচালনে বেশি উপযােগী।

কিন্তু সিরিজ ও কম্পাউন্ড-জেনারেটরের সিরিজ-ফিল্ড থাকায় প্যারালাল পরিচালনের ক্ষেত্রে লােডের কমবেশিতে এদের মধ্যে সাম্যাবস্থা বজায় থাকে না, ফলে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়। এই প্রতিক্রিয়া দূর করার জন্যে প্যারালাল পরিচালনায় ইকুয়ালাইজারের প্রয়ােজন।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post